র‍্যাপিড-এর বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি পণ্যে বাড়ছে শুল্ক, চাপের মুখে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখনো জিএসপি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় বাড়তি শুল্ক দেশীয় রপ্তানিকারকদের জন্য একপ্রকার ‘দ্বিগুণ ক্ষতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পারস্পরিক শুল্ক নীতির কারণে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর শুল্ক হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে রফতানিকারকরা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্কের প্রভাব এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ: বাংলাদেশের উদ্বেগ ও করণীয়’ নিয়ে জার্নালিস্ট ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এসময় তিনি বলেন, নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি রফতানি পণ্যে এখন ২০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসবে। আগের তুলনায় এই হার প্রায় দ্বিগুণ।

রফতানির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ৫৩ শতাংশ রফতানি পণ্যের ওপর আগে ১৫ শতাংশ-২০ শতাংশ শুল্ক ছিল। এখন এসব পণ্যে ৩৫ শতাংশ-৪০ শতাংশ শুল্ক বসবে। আগে ৪ শতাংশ পণ্য একেবারে শুল্কমুক্ত অবস্থায় রফতানি হতো। এখন এসব পণ্যেও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আগেই যেসব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশের বেশি শুল্ক ছিল এখন এসব পণ্যে ৪৫-৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই শুল্ক হার বাংলাদেশের রফতানিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, চামড়াজাত ও গৃহস্থালী পণ্যের ওপর চাপ আরো বাড়বে। বাংলাদেশ এখনো জিএসপি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় বাড়তি শুল্ক দেশীয় রফতানিকারকদের জন্য একপ্রকার ‘দ্বিগুণ ক্ষতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাজার ধরে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসূফের সঞ্চালনায় ওয়ার্কশপে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা।

আরও